ইয়েমেনের তাইজ শহরে হুতি বিদ্রোহী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। জাতিসংঘ এবং স্থানীয় ত্রাণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহের এই সহিংসতায় অন্তত ৯০০ জন নিহত বা আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৪৬ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। মূলত লোহিত সাগরের উপকূলে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই অঞ্চলটিতে চরম অস্থিতিশীলতা ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
দীর্ঘ কয়েক বছর তুলনামূলক শান্ত থাকার পর এই নতুন সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমান মুরশেদ নামের পাঁচ সন্তানের এক জননী জানান, তার পরিবারসহ শত শত মানুষ এখন কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়াই খোলা আকাশের নিচে বা তাঁবুতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। মুরশেদ জানান, জীবন বাঁচাতে সব সহায়-সম্পদ ফেলে তাদের পালিয়ে আসতে হয়েছে, যা তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন ছিল।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। এর মধ্যে অন্তত ৫২ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত। তাইজের আল-মায়ের জেলায় আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা নেই এবং মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো তহবিলের অভাবে প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছাতে পারছে না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় শান্তি ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধি আব্দুলনাসের আল-সুরুরি জানিয়েছেন, বর্তমান সংঘর্ষে ত্রাণকর্মীদের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি এই নতুন লড়াইয়ের ফলে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে এই শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী জানান, দীর্ঘ বছর ধরে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ যুদ্ধের অবসানের প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু নতুন এই সংঘাত তাদের সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। যুদ্ধের তীব্রতায় এখন সাধারণ নাগরিকরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছেন।









