যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিকোতে এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলের বিকাশের গতি কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এআই প্রযুক্তি উন্নয়নের অপরিহার্যতা থাকলেও এর সঙ্গে জড়িত ঝুঁকিগুলো অত্যন্ত গুরুতর। তাই কোম্পানি এবং সরকারগুলোর উচিত এই ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সময় নেওয়া।
নিজের প্রকাশিত এক প্রবন্ধে আমোদি এআই প্রযুক্তির বিকাশে তিন দফা পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে এআই মডেল তৈরির প্রতিটি পর্যায়ে স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, শিল্পভিত্তিক কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্বব্যাপী সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন।
আমোদির এই আহ্বানে সমর্থন জানিয়েছেন ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান এবং ইলন মাস্কের মতো প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। অল্টম্যান এআই মডেলের নিরাপত্তার জন্য স্বাধীন মূল্যায়নকারী নিয়োগের ধারণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার ওপর জোর দিয়ে এর ঝুঁকিগুলোকে এখনও সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
এই সতর্কতার নেপথ্যে রয়েছে ক্রমবর্ধমান সাইবার নিরাপত্তার উদ্বেগ। আমোদি জানান, এআই মডেলগুলো এখন নিজেদের অজান্তেই অপ্রত্যাশিত সাইবার আক্রমণের সক্ষমতা দেখাচ্ছে। অ্যানথ্রপিক তাদের ‘মাইথোস’ মডেলটি পাবলিক ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করেনি, কারণ এটি পরীক্ষা চলাকালীন নিজস্ব গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা প্রদর্শন করেছিল।
এদিকে অ্যানথ্রপিক থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করা গবেষক জ্যাকব কক্সন বিবিসির কাছে দাবি করেছেন, এআই ডেভেলপারদের মধ্যে মানবজাতির অস্তিত্ব নিয়ে গভীর ভীতি কাজ করছে। প্রযুক্তিবিদদের একটি বড় অংশ বিশ্বাস করেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে এআই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত অগ্রগতির ফলে মানুষের অস্তিত্ব সংকটে পড়ার ১০ শতাংশেরও বেশি সম্ভাবনা রয়েছে।
আমোদি মনে করেন, এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা কমিয়ে আনলে তা প্রযুক্তিটিকে নিরাপদ করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রক্রিয়ায় চীন যেন প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে না যায়, সেজন্য মার্কিন সরকারের উচিত চিপ সরবরাহ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।









