বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে চলমান লোডশেডিংয়ের সমস্যা সমাধানে সরকার ফার্নেস অয়েলনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এলএনজি আমদানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যার ফলে পিডিবিকে দৈনিক আড়াই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
পিডিবি ও বিপিসি সূত্রে জানা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে ফার্নেস অয়েলের চাহিদা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। পিডিবির সচিব আফরোজা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংশোধিত চাহিদা অনুযায়ী, এ মাসে দুই লাখ চার হাজার টন ফার্নেস অয়েলের প্রয়োজন, যেখানে পূর্বে এর পরিমাণ ছিল অনেক কম। এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে বিপিসি আগামী ৩৫ দিনে সাতটি পার্সেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি করবে।
লোডশেডিংয়ের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর দেশে পিক আওয়ারে ১৭৭১ থেকে ২৫৬১ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের হার সবচেয়ে বেশি ছিল। বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
বিপিসির পরিচালক (বিতরণ) আসাদুল হক জানান, পিডিবির চাহিদা পাওয়ার পর থেকেই তারা দ্রুত বাড়তি ফার্নেস অয়েল আমদানির পদক্ষেপ নিয়েছেন। এমনকি পরিকল্পনার বাইরেও এ মাসে অতিরিক্ত দুটি পার্সেল আনা হচ্ছে, যা বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে পিডিবির উপ-সচিব (উৎপাদন) হেলালুর রহমান জানান, সরকার থেকে প্রাপ্ত ছয় হাজার কোটি টাকা বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে (আইপিপি) প্রদান করা হয়েছে, যাতে তারা দ্রুত নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ফার্নেস অয়েল আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলতে পারে। পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ফার্নেস অয়েলের নতুন চালানগুলো আসা শুরু হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধাপে ধাপে বাড়ানো সম্ভব হবে এবং লোডশেডিং পরিস্থিতি উন্নত হবে।










