রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সামরিক অভিযানের পর থেকে শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। স্থানীয় গভর্নর জানিয়েছেন, এই সংখ্যা তিনশ ছাড়িয়েছে, তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে সরকারি কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
২০২৪ সালের আগস্টে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার সীমান্ত চৌকি অতিক্রম করে দ্রুত প্রায় ৭৭৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করে নেয়। ওই সময় প্রায় দুই হাজার মানুষ যুদ্ধের কবলে আটকা পড়েন। স্থানীয় অনেক বাসিন্দা জানান, সরকারি গণমাধ্যমগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে প্রচার করায় তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ পাননি।
নিখোঁজদের সন্ধানে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক গ্রুপ তৈরি করেছেন। লুবভ নামে এক ভুক্তভোগী জানান, সরকারি রেড ক্রস বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনো সাড়া মেলেনি। ২০২৫ সালের শুরুতে রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনার নিখোঁজদের যে তালিকা প্রকাশ করেন, তাতে ভুক্তভোগীদের নাম ও তথ্যে ব্যাপক অসংগতি ছিল, যা স্বজনদের চরম ক্ষুব্ধ করে তোলে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধারে সরকারি কোনো সহায়তার অভাব ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ইউরি কাচেভ জানান, মরদেহ সংগ্রহের জন্য ভ্যান ভাড়া ও অন্যান্য ব্যয় স্বেচ্ছাসেবকদের নিজেদের উদ্যোগে সংগ্রহ করতে হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারি কর্তৃপক্ষ কোনো অর্থায়ন করেনি।
লুবভ তার মায়ের মরদেহ উদ্ধারের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন। শেষ পর্যন্ত বেলগোরোদের স্থানীয় এক মর্গে মায়ের ছবি শনাক্ত করেন তিনি। ডিএনএ নমুনা হারিয়ে ফেলার কারণে দীর্ঘদিন তার মায়ের মরদেহ পরিচয়হীন অবস্থায় পড়ে ছিল। বর্তমানে ওই নারীর মরদেহ দাহ করে তার ছাই নিজ কাছে রেখেছেন লুবভ।
এ বিষয়ে জানতে বিবিসি কুরস্কের গভর্নর, মানবাধিকার কমিশনার ও রাশিয়ার রেড ক্রসের সাথে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তারা কুরস্ক থেকে উদ্ধার করা সকল বেসামরিক নাগরিককে রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে।










