যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্ককে নিয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সমালোচনামূলক মন্তব্য করায় শত শত মার্কিন নাগরিক তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর উটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে কার্কের মৃত্যুর পর অনেকেই তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, যার ফলে তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। অনেক ভুক্তভোগী মনে করছেন, এটি বাক্স্বাধীনতার ওপর আঘাত, যদিও তারা নিজ নিজ অবস্থানে অটল।
চাকরি হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে জেরাল্ড বোরগুয়েট একজন, যিনি বাস্কেটবল বিষয়ক লেখক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কার্কের মৃত্যুর পরপরই তাকে নিয়ে সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়ায় তিনি নিজের চাকরি হারান। এর ফলে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। বোরগুয়েট জানান, হুমকির মুখে তাকে নিজের বাড়ি ও রাজ্য ছাড়তে হয়েছে। এক বছর পার হলেও তিনি তার মন্তব্যের জন্য অনুতপ্ত নন, তবে এর নেতিবাচক প্রভাব তার ক্যারিয়ারকে ধ্বংস করে দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পটভূমি ও চাপ সৃষ্টি
কার্কের মৃত্যুর পর মার্কিন রাজনীতিতে এক ধরনের মেরুকরণ দেখা দেয়। রক্ষণশীলরা তাকে স্মরণীয় করে তোলার আহ্বান জানালে, তার বিরোধীরা কড়া সমালোচনা করেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ পর্যায়ের অনেক রাজনীতিক কার্ককে নিয়ে উৎসবকারীদের চিহ্নিত করে তাদের নিয়োগকর্তাদের জানানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান দ্রুত ব্যবস্থা হিসেবে কর্মসংস্থান বাতিল করে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জনের বেশি মানুষ এই পরিস্থিতির কারণে শৃঙ্খলাজনিত বা বরখাস্তের শিকার হয়েছেন।
আইনি লড়াই ও ক্ষতিপূরণ
চাকরি হারানো ব্যক্তিদের অনেকে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাদের দাবি, এই বরখাস্ত বাক্স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মোটা অংকের অর্থ প্রদানের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করতে বাধ্য হয়েছে। নৃবিজ্ঞানী তামারা শিরিনিয়ান প্রায় ১৯ লাখ ডলার, অধ্যাপক ড্যারেন মাইকেল ৫ লাখ ডলার এবং জীববিজ্ঞানী ব্রিটনি ব্রাউন ৪ লাখ ৮৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অবস্থান
আইনি জয় বা ক্ষতিপূরণ পেলেও অনেকের মতে এটি কোনো প্রকৃত বিচার নয়। ব্রিটনি ব্রাউন জানান, তিনি কেবল তার আগের কাজে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। ভুক্তভোগীদের বড় একটি অংশ এখনো মনে করেন যে, কার্কের মতাদর্শের সমালোচনা করা তাদের অধিকার ছিল। তারা তাদের মন্তব্যের জন্য আক্ষেপ প্রকাশ না করলেও, কর্মজীবন ও পরিবারের ওপর আসা কঠিন পরিস্থিতির জন্য দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন।









