Home / আন্তর্জাতিক / আফ্রিকার বাজার থেকে কেন সরে দাঁড়াচ্ছে উবার?

আফ্রিকার বাজার থেকে কেন সরে দাঁড়াচ্ছে উবার?

নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজাসহ উগান্ডা থেকে নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে আন্তর্জাতিক রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম উবার। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যবসার অগ্রাধিকার ও বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই দুটি দেশ ছাড়াও গত কয়েক বছরে আইভরি কোস্ট ও তানজানিয়ার বাজার থেকেও সরে এসেছে উবার।

কেন এই সিদ্ধান্ত
নাইজেরিয়ার অর্থনৈতিক সংস্কার এবং জ্বালানি তেলের ভর্তুকি তুলে নেওয়ার ফলে রাইড শেয়ারিং ব্যবসার খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। গাড়ির যন্ত্রাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় চালকদের আয়ের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। চালকদের দাবি, উবারের কমিশন এবং ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে আগের মতো মুনাফা করা সম্ভব হচ্ছে না। গত মার্চ মাসে লাগোস ও ওগুনে চালকরা তিনদিনের ধর্মঘট পালন করেন, যেখানে তারা বর্তমান ভাড়াকে অলাভজনক হিসেবে উল্লেখ করেন।

চালকদের সংকট
নাইজেরিয়ার অ্যামালগামেটেড ইউনিয়ন অফ অ্যাপ-বেসড ট্রান্সপোর্টার্স (এইউএটিওএন)-এর সাধারণ সম্পাদক আওয়ায়ে ইব্রাহিম জানিয়েছেন, চালকরা আয় করতে গিয়ে নানাভাবে চাপের মুখে পড়ছেন। কোম্পানির ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন দেওয়ার পর জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ফলে অনেক চালকই এখন বোল্ট (Bolt) বা ইনড্রাইভের (inDrive) মতো প্ল্যাটফর্মে চলে যাচ্ছেন অথবা সরাসরি নগদ ভাড়ায় যাত্রী বহন করছেন।

প্রতিযোগিতা ও ভবিষ্যৎ
উগান্ডার বাজারেও একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে উবারকে। সেখানে আগে থেকেই বোল্ট এবং সেফবোডার মতো স্থানীয় প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় ছিল তারা। বর্তমানে উবার জানিয়েছে, তারা আফ্রিকার সব বাজার ছাড়ছে না। যেসব বাজারে চালকদের আয়ের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব এবং রাইড শেয়ারিং মডেল টেকসই, সেখানে তারা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। কেনিয়ার উদাহরণ দিয়ে তারা জানায়, সেখানে সরকারি নিয়ম মেনে কমিশন ১৮ শতাংশে নামিয়ে এনে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। অর্থাৎ, যেসব দেশে ব্যবসার ব্যয় নির্বাহ সম্ভব নয়, সেখান থেকেই উবার নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *