ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী মোখা সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। স্থানীয় সামরিক সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌচলাচল নিরাপদ থাকবে বলে হুথিরা দাবি করলেও, তারা সৌদি আরবের জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার হুমকি অব্যাহত রেখেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরের নিয়ন্ত্রণ হারানো ইয়েমেন সরকারের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংঘর্ষ ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি
মোখা শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বুধবার রাতে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর হুথি যোদ্ধারা শহরে প্রবেশ করে। এই আকস্মিক হামলার পর বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শহরের রাস্তাগুলোতে হতাহতদের পড়ে থাকতে দেখা গেলেও সাহায্যের জন্য কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। বর্তমানে সরকারি অফিস ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বাস্তুচ্যুত অনেক পরিবার ইয়েমেনের সরকারি নিয়ন্ত্রিত শহর আদেনের দিকে আশ্রয় নিচ্ছে।
বাব আল-মানদাব ও কৌশলগত গুরুত্ব
মোখার পাশাপাশি লোহিত সাগরের বাব আল-মানদাব প্রণালীর পেরিম দ্বীপ থেকেও সরকারি বাহিনী সরে গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই প্রণালীটি এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে প্রধান নৌপথ হিসেবে পরিচিত। সরকারি বাহিনীর কমান্ডার তারেক সালাহ জানিয়েছেন, তিনি তার কমান্ড সেন্টার সরিয়ে নিয়েছেন এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুথিদের এই অভিযানে সরকারি বাহিনী বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। এছাড়া লোহিত সাগরে অবস্থিত জুকার দ্বীপও হুথিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
পাল্টাপাল্টি হামলা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
হুথিদের এই অভিযানের জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে। এর আগে হুথিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত এক সপ্তাহে কয়েকশ মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রশাদ আল-আলিমি উপকূলীয় অঞ্চল সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছেন।









