যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের কারাগারে বন্দী ভেনেজুয়েলার সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গৃহবন্দিত্বের আবেদন জানিয়েছেন। বুধবার আদালতে দাখিল করা আবেদনের মাধ্যমে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, কারাগারে থাকাকালীন ফ্লোরেসের স্বাস্থ্যের ব্যাপক অবনতি হয়েছে এবং তার যথাযথ চিকিৎসার জন্য কারাগারের বাইরে থাকা প্রয়োজন। এই আবেদনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই বিচারক আলভিন কে. হেলারস্টাইন সিদ্ধান্ত নেবেন যে ফ্লোরেস আগামী জুন মাসে নির্ধারিত বিচারের আগ পর্যন্ত ম্যানহাটনের কোনো বাসভবনে থেকে চিকিৎসা নিতে পারবেন কি না।
ফ্লোরেসের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে মার্কিন সামরিক অভিযানের পর তাকে নিউ ইয়র্কে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে গত ২৯ জুলাই তিনি একটি মৃদু হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন বলে তাদের সন্দেহ। আগে শুধুমাত্র মাসিক ইনজেকশনের মাধ্যমে তার মাইট্রাল ভালভ প্রল্যাপসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, এখন তাকে চারটি ভিন্ন ওষুধ সেবন করতে হচ্ছে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির কারণে সবসময় নাইট্রোগ্লিসারিন সাথে রাখতে হচ্ছে।
কারাগারের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন যে, চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার এবং দীর্ঘমেয়াদী বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু কারাগারের ভেতর এই ধরনের জটিল অস্ত্রোপচার পরবর্তী পুনর্বাসন সম্ভব নয়। আবেদনে বলা হয়েছে, যদিও কারাগারের চিকিৎসকদের সেবা নিয়ে তাদের অভিযোগ নেই, তবুও বন্দীশালার পরিবেশ একজন রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য সহায়ক নয়।
গৃহবন্দিত্বের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ম্যানহাটনের কোনো বাসভবনে ফ্লোরেসকে রাখা হলে সেখানে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র নিরাপত্তা, ভিডিও মনিটরিং এবং ফোন কল রেকর্ডিংয়ের মতো কড়াকড়ি বজায় থাকবে। উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগে বিচারাধীন রয়েছেন। জানুযারি মাসে কারাকাসে এক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তাদের আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়।










