যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটিক সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিস এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এক গোপন বৈঠক করেছেন। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা যদি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়, তবে তাদের সঙ্গে কাজ করার পথ খোঁজার অংশ হিসেবেই এই বৈঠকটি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউইয়র্ক টাইমস সর্বপ্রথম এই বৈঠকের খবরটি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, গৃহায়ন, অভিবাসন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে উভয় নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ডেমোক্র্যাটদের পুনরায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বৈঠক সম্পর্কে হাকিম জেফ্রিস সরাসরি কিছু না বললেও রিপাবলিকান প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রিপাবলিকানরা তাদের একগুঁয়ে মনোভাব পরিবর্তন না করলে তা সাধারণ মানুষের জন্য ব্যর্থতা বয়ে আনবে। তবে এই বৈঠকের খবরে রিপাবলিকান শিবিরে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। বর্তমান স্পিকার মাইক জনসন এই সাক্ষাতের গুরুত্ব নাকচ করে দিয়ে বলেন, কুশনারের সাথে এই বৈঠকের প্রকৃত উদ্দেশ্য তার জানা নেই।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরেও এই বৈঠক নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দলের অনেক নেতা ও সমর্থক প্রশ্ন তুলেছেন, কেন জেফ্রিস এমন একজনের সঙ্গে বসলেন যিনি সরকারি কোনো পদে নেই এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত। তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পরিবর্তে কুশনারের সাথে আলোচনা করা ডেমোক্র্যাটদের জন্য রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচক হতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে বিচারিক সংস্কার বিল পাস করার ক্ষেত্রে জেফ্রিস ও কুশনারের মধ্যে কাজের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বৈঠকটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্ভাব্য বিজয় এবং পরবর্তী সংসদীয় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।









