জাম্বিয়ার লুসাকাসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে আদালতগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার আইনি আবেদনের শেষ সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মুহূর্তে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। বিরোধী দলীয় প্রার্থী ব্রায়ান মুন্দুবিলে নির্বাচনের ফলে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি মোট ভোটের ৩৮ শতাংশ পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন, যেখানে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমা ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।
আদালত বন্ধের বিষয়ে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। নিরাপত্তা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে সব কর্মীকে অফিসে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। লুসাকার হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টসহ সাংবিধানিক আদালতের ভবনগুলো বর্তমানে সশস্ত্র পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাদের আদালতের সীমানা থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
মুন্দুবিলে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। নির্বাচনের পর থেকে বিরোধী দলের একজন নেতাকে গুলি করে হত্যা এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশটিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তার হুমকির মুখে থাকা মুন্দুবিলে শেষ পর্যন্ত আদালতে আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
জাম্বিয়ার ল অ্যাসোসিয়েশন (এলএজেড) আদালত বন্ধের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, কোনো সরকারি নির্দেশনা বা পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আদালত প্রাঙ্গণ সামরিকায়ন করা বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করছে। আইনজীবীদের দাবি, নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের জন্য আবেদনের সুযোগ সীমিত করতেই পরিকল্পিতভাবে আদালতগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে আদালতের কার্যক্রমে বাধা থাকলেও ১ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট হিচিলেমার শপথগ্রহণের আয়োজন অব্যাহত রয়েছে। ন্যাশনাল হিরোস স্টেডিয়ামে শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্য কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দল নির্বাচনের সময় সামরিক বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণে অসংগতি নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।










