যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে দেশটির জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা। সরকারি ব্যয়ের ক্রমাগত বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চাপে এই বিশাল ঋণের বোঝা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ঋণের এই মাইলফলক প্রসঙ্গে ‘কমিটি ফর আ রেসপন্সিবল ফেডারেল বাজেট’-এর প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিস বলেন, ১৯৮১ সালে যখন ঋণ ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, তখন তা ছিল একটি সতর্কবার্তা। অথচ বর্তমানে আমেরিকা কেবল ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই তার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জো বাইডেন প্রশাসনের সময়ে সরকারি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এই ঋণ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
অর্থনীতিবিদ এরিক সোয়ানসন জানিয়েছেন, এক দশক আগের তুলনায় বর্তমানে মার্কিন সরকার উচ্চ সুদের হারের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগকারীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি মুনাফা দাবি করছেন। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বড় অংকের বিনিয়োগের কারণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথেও বিনিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে সরকারকে।
অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ এ এল-এরিয়ান জানান, সরকারি ঋণের সুদের হার গত বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। এটি এখন প্রতিরক্ষা খাতের বাজেটের চেয়েও বেশি, যা ট্যাক্স রাজস্বের প্রায় ২০ শতাংশ দখল করে আছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিস্থিতি এখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। তবে ঋণের পরিমাণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ঋণের কারণে বন্ধকি ঋণ (মর্টগেজ), গাড়ির লোন এবং ক্রেডিট কার্ডের সুদহার বাড়তে পারে, যা বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় আঘাত আনবে।
আগামী দিনগুলোতে এই সংকট সামাল দিতে হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা জরুরি। তবে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বড় ধরনের নীতিগত সংস্কার বা কঠোর ব্যয় সংকোচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া রাজনৈতিকভাবে কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।









