বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও চলতি বোরো মৌসুমে সন্তোষজনক হারে ধান ও চাল সংগ্রহ করেছে সরকার। ইতোমধ্যে ধান সংগ্রহের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে এবং সেদ্ধ ও আতপ চাল সংগ্রহের হারও লক্ষ্যমাত্রার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। দেশের খাদ্য মজুতের প্রধান উৎস বোরো ধান, তাই এই অর্জন দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি বছরের মে মাস থেকে শুরু হওয়া এই সংগ্রহ কার্যক্রমে ১৮ লাখ টন ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং ১ লাখ টন আতপ চাল অন্তর্ভুক্ত ছিল। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলমান এই সংগ্রহের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ১৬ আগস্ট পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, ৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৪০ টন ধান সংগ্রহ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। এছাড়া সেদ্ধ চাল ১১ লাখ ৯ হাজার ৫৬৯ টন এবং আতপ চাল ৯০ হাজার ৫৯৫ টন সংগ্রহ করা হয়েছে।
সংগ্রহ প্রক্রিয়ার সাফল্য সম্পর্কে খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সংগ্রহ বিভাগ) মো. মনিরুজ্জামান জানান, হাওরাঞ্চলে দ্রুত ধান-চাল ক্রয় শুরু করা, কৃষক নিবন্ধন সহজ করা এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালুর মতো পদক্ষেপের ফলে এই সাফল্য পাওয়া গেছে। এছাড়া সরকারি গুদামে বস্তার সংকট থাকলেও কৃষকদের ফিরিয়ে না দিয়ে তাদের বস্তাতেই চাল গ্রহণ করা হয়েছে। দাম পরিশোধের ক্ষেত্রে সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যবহারও কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বর্তমান সরকার চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে যে সফলতা দেখিয়েছে তা প্রশংসনীয়। এর ফলে সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুত বেড়েছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে একটি স্বস্তিদায়ক অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের গুদামগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ ২৪ লাখ ২ হাজার ৪২০ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এর মধ্যে চালের পরিমাণ ২০ লাখ ৮১ হাজার ৬৯ টন, গম ২ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩৫ টন এবং ধান ১ লাখ ১০ হাজার ৪৮৭ টন। গত কয়েক বছরের তুলনায় এই মজুত পরিস্থিতি অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে খাদ্য বিভাগ।









