ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো এবং রিও গ্রান্দে দো নর্তে অঙ্গরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো তৈরিতে প্রায় ২৩০ কোটি রিয়েল (৪৪৪.২ মিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রশাসন জানিয়েছে, এআই খাতের উন্নয়নে তারা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটি মূলত বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
প্রকল্পের বিস্তারিত
রিও ডি জেনিরোতে সুপারকম্পিউটিং অবকাঠামো তৈরির জন্য ১৩০ কোটি রিয়েল (২৫১ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে এবং আইফ্লাইটেকের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বড় ভাষার মডেল (এলএলএম) তৈরি করা, যা বিভিন্ন সেক্টরে এআই সেবাকে ত্বরান্বিত করবে।
অন্যদিকে, বাকি ১০০ কোটি রিয়েল (১৯৩.১ মিলিয়ন ডলার) দিয়ে একটি শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার তৈরির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এটি রিও গ্রান্দে দো নর্তে রাজ্যে স্থাপন করা হবে, যা বিশ্বের শীর্ষ ১০টি শক্তিশালী এআই প্রসেসিং মেশিনের একটি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া এই দরপত্র জেতার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
লুলা প্রশাসনের ভাষ্যমতে, তাদের কৌশল হলো কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশ বা কোম্পানির ওপর এককভাবে নির্ভরশীল না থাকা। ল্যাটিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটি বাণিজ্য ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। এই সুপারকম্পিউটারগুলো ডেটা ও তথ্যের ওপর জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার।
পরবর্তী পদক্ষেপ
জাতীয় বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন তহবিল (এফএনডিসিটি) থেকে ধাপে ধাপে এই বিনিয়োগের অর্থায়ন করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই সুপারকম্পিউটারটি আগামী বছরের শেষ নাগাদ চালু হবে। এছাড়া চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত সহযোগিতামূলক চুক্তিটি ২০২৭ সালের জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।










