বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ডিএসইতে নিয়োগে ঘুস ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেওয়ার জেরে প্রতিষ্ঠানটির চাকরিচ্যুত এক নারীকর্মীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ডিএসইর দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওমর এইচ খান এই নোটিশ দিয়েছেন। এই ঘটনাটি ডিএসইর পেশাগত মর্যাদা ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা হলেন ডিএসইর জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর ও অ্যাডমিন) হাসান তারেক চৌধুরী এবং জেনারেল ম্যানেজার ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের প্রধান তাজুল ইসলাম। ডিএসইর সাবেক এক্সিকিউটিভ মারিয়াম আক্তারের কাছে পাঠানো এই নোটিশে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন, বক্তব্য প্রত্যাহার, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ও ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার অঙ্গীকার চাওয়া হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে মানহানির ফৌজদারি মামলা ও অন্তত ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১ আগস্ট একটি সংবাদ প্রতিবেদনে অংশ নিয়ে মারিয়াম আক্তার অভিযোগ করেন যে, ডিএসইর ওই দুই কর্মকর্তা তাদের পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য ডিএসইর পরিচালক সৈয়দা জাকেরিন বখত নাসিরকে ৩০ লাখ টাকা ঘুস দিয়েছেন। এছাড়া অর্থের বিনিময়ে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
ডিএসইর ওই দুই কর্মকর্তার দাবি, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। ডিএসইর নিয়োগ প্রক্রিয়া একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটির সুপারিশ ও পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
চাকরিচ্যুত ওই নারীকর্মীকে সাতদিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তাকে কথিত ঘুস লেনদেনের তারিখ, স্থান, প্রমাণ বা নথিপত্র দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও ও বক্তব্য মুছে ফেলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন ডিএসইর ওই দুই কর্মকর্তা।










