ইউক্রেনের কিয়েভে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ দেশটিতে যুদ্ধকালীন নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। ইউক্রেনের জনপ্রিয় এই নেতা মঙ্গলবার ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, গণতন্ত্র রাশিয়ার হাতে জিম্মি থাকতে পারে না। রাশিয়া কেন ইউক্রেনে আক্রমণ করেছে, সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন লড়াই করছে কারণ তারা একটি স্বাধীন ইউরোপীয় রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে চায়। রাশিয়ার সাথে যুদ্ধের কারণে ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি রয়েছে, যার ফলে নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে।
গত মাসে হঠাৎ করেই মিখাইলো ফেদোরভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। তার এই বরখাস্তের পর দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখা দেয়। বুধবার সকালে কিয়েভে ইউক্রেনের পার্লামেন্টের বাইরে প্রায় ১০০ জন বিক্ষোভকারী ফেদোরভকে পুনরায় নিয়োগের দাবিতে স্লোগান দেন। ৩৫ বছর বয়সী এই নেতাকে তার মেয়াদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্কার, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা এবং নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হয়। তার বরখাস্তের নেপথ্যে সেনাপ্রধান ওলেক্সানদ্র সিরস্কির সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফেদোরভ তার ভিডিও বার্তায় ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির ওপর জোর দিয়েছেন। তবে তার এই দাবির সমালোচনাও করেছেন অনেকে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির অনুসারী এমপি ওলেক্সানদ্র মিরেজকো এই প্রস্তাবকে বিপজ্জনক এবং অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন দেশের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে যা রাশিয়ার পক্ষেই কাজ করবে। অন্যদিকে, বিরোধী দলীয় এমপি ভলোদিমির আরিয়েভ সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, ইউক্রেন এখন নির্বাচন ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সন্ধিক্ষণে রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হয়েছে। তবে সংবিধান অনুযায়ী সামরিক আইন চলাকালীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ নেই। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুদ্ধের অজুহাতে নির্বাচন এড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তখন জেলেনস্কি বলেছিলেন যে মিত্ররা নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে ইউক্রেন নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত। এদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খেরসনে বুধবার রাশিয়ার ড্রোন হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আহ্বান জানালেন বিদায়ী প্রতিরক্ষামন্ত্রী।










