যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান কয়েক মাসের সংঘাত নিরসনে একটি দ্রুতস্থায়ী চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তিনি ইরানের ওপর নতুন কোনো সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রেখেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে এবং উভয় পক্ষই বড় ধরনের হামলার হুমকি বিনিময় করছিল, তখন ট্রাম্পের এই ঘোষণা নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দাবি করেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ তাকে অনুরোধ জানিয়েছে যেন তিনি আক্রমণ থেকে বিরত থাকেন, কারণ একটি চুক্তির রূপরেখা এরই মধ্যে সম্মত হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, এই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকি চিরতরে বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ট্রাম্প জানান, ইসরায়েলও এই চুক্তির প্রতিশ্রুতিতে তার সঙ্গে একমত হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে এমন কোনো অনুরোধ করা হয়নি এবং ট্রাম্পের এই দাবি ডাহা মিথ্যা। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।
বর্তমান সংকট ও প্রেক্ষাপট
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধের ১৫৬তম দিনে এসেও হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দ্বারা লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে উদ্বেগ বাড়ছে সামরিক সরঞ্জাম ও মিসাইল ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা ফুরিয়ে যাওয়া নিয়ে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যে পরিমাণ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ছিল, তা আশঙ্কাজনক হারে কমে এসেছে। তবে ট্রাম্প এই উদ্বেগের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা জানিয়েছেন, তারা শত্রুপক্ষের যেকোনো হুমকিকে বাস্তব বলে বিবেচনা করছেন এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে তৎপর রয়েছেন। বিভিন্ন আঞ্চলিক দেশ যেমন কাতার, তুরস্ক ও পাকিস্তান দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও আগের জুন মাসে করা যুদ্ধবিরতি হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিবাদের কারণে খুব দ্রুত ভেঙে গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি চুক্তির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি না হয়, তবে এই হামলা স্থগিতের ঘোষণা কেবল একটি সাময়িক বিরতি হিসেবেই গণ্য হবে।










