Home / আন্তর্জাতিক / তুরস্কের রাজনীতি থেকে বিদায় নিলেন আহমেদ দাভুতোগলু

তুরস্কের রাজনীতি থেকে বিদায় নিলেন আহমেদ দাভুতোগলু

তুরস্কের আঙ্কারায় দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং ফিউচার পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ দাভুতোগলু আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল ফিউচার পার্টির কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তুরস্কের রাজনৈতিক জলবায়ু ‘দূষিত’ হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে দাভুতোগলু এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এর মাধ্যমে এক সময়ের প্রভাবশালী এই রাজনীতিক তার রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইতি টানলেন।

ঐতিহ্য ও কূটনৈতিক প্রভাব

আহমেদ দাভুতোগলু তুরস্কের রাজনীতিতে একজন প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি দেশটির বৈদেশিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০২ সালে একে পার্টি ক্ষমতায় আসার পর এরদোয়ানের প্রধান পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ২০০৯ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার হাত ধরেই তুরস্কের কূটনৈতিক কৌশলে আমূল পরিবর্তন এসেছিল, যাকে তিনি ‘রিদিমিক ডিপ্লোমাসি’ বা ছন্দময় কূটনীতি বলে অভিহিত করেছিলেন। তার সময়কালে তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্য ও বলকান অঞ্চলে নিজের প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়েছিল।

রাজনৈতিক জীবনের বাঁক বদল

২০১৪ সালে রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর দাভুতোগলুকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। তবে শাসনব্যবস্থা নিয়ে এরদোয়ানের সাথে মতপার্থক্য তৈরি হলে ২০১৬ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর ২০১৯ সালে তিনি ফিউচার পার্টি গঠন করেন। এর মাধ্যমে তিনি এরদোয়ানের রাজনীতির বিপরীতে একটি রক্ষণশীল গণতান্ত্রিক ধারা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন।

ব্যর্থতার কারণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে দাভুতোগলু তার এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মকে সফল করতে পারেননি। ফিউচার পার্টি সাধারণ ভোটারদের মাঝে বড় কোনো সমর্থন তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৩ সালের নির্বাচনে তার দল বড় কোনো সাফল্য না পাওয়ায় এবং মূলধারার রাজনীতির সাথে তাল মেলাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত দলটির অস্তিত্ব সংকটে পড়ে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব

দাভুতোগলুর রাজনীতি থেকে প্রস্থানকে অনেকেই তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যর্থ হলেও, একজন বুদ্ধিজীবী হিসেবে তুরস্কের রক্ষণশীল সমাজে তার অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে বর্তমানে এরদোয়ানের শক্তিশালী অবস্থানের বিপরীতে নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটাতে তার ব্যর্থতাকেই বড় করে দেখা হচ্ছে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *