Home / আন্তর্জাতিক / আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্প প্রশাসনের

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক এই আদালতের আর্থিক ব্যবস্থা, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা এবং তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত করা। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আদালতের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে এটি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অবস্থানের একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে, কারণ এতদিন শুধু নির্দিষ্ট বিচারক বা কৌঁসুলিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল।

নিষেধাজ্ঞার প্রভাব

প্রস্তাবিত এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ছয় থেকে সাত মাস পর থেকে আইসিসির সাথে মার্কিন কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানির লেনদেন নিষিদ্ধ হতে পারে। এর ফলে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের লাইসেন্স ছাড়া আইসিসিকে অর্থ, পণ্য বা সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। অনেক ব্যাংক ও কোম্পানি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মেনে চলে, কারণ তারা মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। আদালতের প্রেসিডেন্ট ও রেজিস্ট্রার আগেই সতর্ক করেছেন যে, প্রতিষ্ঠানের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হলে প্রয়োজনীয় আইটি সেবা ক্রয়, বিমা সুবিধা, তদন্তকারী নিয়োগ এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান বাধাগ্রস্ত হবে।

নিষেধাজ্ঞার কারণ

ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্যমতে, আইসিসি এমন সব দেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে নিজেদের এখতিয়ার অতিক্রম করেছে, যারা এই আদালতের সদস্য নয়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কেউই আইসিসির সদস্য নয় এবং তারা আদালতের এই বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে আইসিসির এক ডজন বিচারক ও কৌঁসুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। গত আগস্ট মাসে আদালতের প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে ও সিনিয়র ট্রায়াল লয়ার আবদুলায়ে সেয়কে সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন কর্মীদের বিরুদ্ধে আইসিসির তদন্ত নিয়েও ওয়াশিংটন বরাবরই আপত্তি জানিয়ে আসছে।

বর্তমান পরিস্থিতি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত জুলাই মাসে আইসিসিকে বিশ্বমঞ্চে কোণঠাসা করার জন্য একটি প্রচারণার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর মধ্যেই চাদ, ভেনেজুয়েলা, বুরকিনা ফাসো, মালি ও নাইজার আদালত থেকে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আইসিসির কার্যক্রম নিয়ে এমন চাপের পাশাপাশি আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি মানবাধিকার সংস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা মানবাধিকার কর্মীদের আইনি কাজের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *