স্পেনের সেউতা অঞ্চলে হাজার হাজার অভিবাসীর অনুপ্রবেশের ঘটনায় বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পেনে প্রবেশের সহজ পথ নিয়ে ছড়ানো গুজবের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে অভিবাসন ইস্যু নিয়ে পুনরায় বিভাজন সামনে আসায় এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার সমুদ্রপথে স্পেনের সেউতায় প্রবেশ করা হাজার হাজার অভিবাসীর বেশিরভাগই ইতিমধ্যে মরক্কোতে ফিরে গেছেন। স্প্যানিশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের প্রহরায় তাদের সীমান্তে ফেরত পাঠানো হয়। এই অমানবিক যাত্রার ফলে অন্তত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সমুদ্রে ভেসে থাকা অবস্থায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি স্পেনের সাথে শেনজেন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছেন। মেলোনির এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী সানচেজ। স্পেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেউতা শেনজেন এলাকার অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই অভিবাসীদের মূল ইউরোপে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব
এই অভিবাসী স্রোতের পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো পরিকল্পিত গুজব কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইন্টারনেটে ‘স্পেন সবার জন্য উন্মুক্ত’—এমন বার্তা দিয়ে তরুণদের সমুদ্র পাড়ি দিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। অথচ সেউতায় পৌঁছানোর পর তাদের জন্য কোনো আশ্রয় বা খাদ্যের ব্যবস্থা ছিল না। ফলে বেশিরভাগ অভিবাসী হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের রক্ষণশীল রাজনীতিকরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অনেকে একে ‘আগ্রাসন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যদিকে, স্পেনের সরকার এই সংকট নিরসনে সেউতার সমুদ্রসীমায় বয়া বসানোসহ সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করছে। আগামী সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা বাহ্যিক সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসবেন।










