ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসনে রাশিয়ার একটি ড্রোন দিয়ে এক সাধারণ সবজি বিক্রেতাকে ধাওয়া করে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করে একে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো ‘সাফারি’ হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বেসামরিক মানুষের ওপর ড্রোনের এ ধরনের ব্যবহার ফ্রন্টলাইন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য পরিকল্পিত এক কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, খেরসনের একটি রাস্তায় এক সবজি বিক্রেতা ড্রোনের হাত থেকে বাঁচতে দৌড়াচ্ছেন। ড্রোনটি তাকে ধাওয়া করে সাদা রঙের একটি ভ্যানের চারপাশে ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত তার ওপর আছড়ে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ৫২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি, যার নাম ইউরি, তিনি একাধিক স্প্লিন্টারের আঘাত, মাথায় আঘাত এবং মানসিক ট্রমা নিয়ে বেঁচে গেছেন।
ঘটনার বিবরণ ও প্রতিক্রিয়া
হাসপাতালের বিছানা থেকে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় ইউরি জানান, তিনি ও তার স্ত্রী ভ্যানের পাশে সবজি সাজাচ্ছিলেন, তখনই ওপর থেকে ড্রোনের ভনভন শব্দ শুনতে পান। তিনি নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং কোনো হুমকি নয় তা বোঝাতে ড্রোনের ক্যামেরার দিকে রসুন ও সবজি তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু ড্রোনটি তাকে লক্ষ্য করেই আক্রমণ চালায়।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই ঘটনাকে একটি বর্বরোচিত যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ড্রোন পরিচালনাকারী ব্যক্তিটি খুব ভালোভাবেই জানতেন যে তিনি একজন বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্যবস্তু করছেন। এটি রাশিয়ার একটি সুপরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত কৌশল।
পটভূমি
বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে যে, খেরসনের তাভরিয়স্কি এলাকার একটি বাজারে এই ঘটনাটি ঘটেছে। এর আগেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে এ ধরনের ‘সাফারি’ হামলার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালের জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী খেরসন অঞ্চলে নিয়মিতভাবে ড্রোন ব্যবহার করে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা ও আহত করছে। এই হামলার ভিডিওগুলো অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে রাশিয়ার সেনারা ভুক্তভোগীদের শেষ মুহূর্তের আতঙ্ক প্রচার করে, যা জাতিসংঘের মতে মানবিক মর্যাদাহানির সমতুল্য যুদ্ধাপরাধ। তবে রাশিয়া বরাবরই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।










