Home / আন্তর্জাতিক / গাজায় এতিম শিশুদের দুর্দশা ও মানবিক সংকট নিয়ে ‘ম্যারাথন’ দৌড়

গাজায় এতিম শিশুদের দুর্দশা ও মানবিক সংকট নিয়ে ‘ম্যারাথন’ দৌড়

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার খান ইউনিস শহরে ইসরায়েলি যুদ্ধের কারণে অভিভাবক হারানো শিশুদের দুরবস্থা তুলে ধরতে আয়োজিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ম্যারাথন দৌড়। আন্তর্জাতিক মানবিক নেটওয়ার্ক (আইএনএইচ) ইন্দোনেশিয়ার আয়োজনে শুক্রবার এই দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুরা তাদের ওপর বয়ে যাওয়া যুদ্ধের বিভীষিকা ভুলে কিছুক্ষণের জন্য হলেও প্রাণচাঞ্চল্যে মেতে উঠেছিল। আয়োজক সংস্থাটির প্রকল্প সমন্বয়কারী মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, যুদ্ধের কারণে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়া এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়াতে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করাই এই দৌড়ের মূল লক্ষ্য।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় চলমান যুদ্ধের ফলে ৫৮ হাজারের বেশি শিশু তাদের বাবা কিংবা মা অথবা উভয়কেই হারিয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৭ হাজার শিশু তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা বর্তমানে গাজার অন্যতম বড় মানবিক সংকট।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১৩ বছর বয়সী সাইফ হিজাজি হুইলচেয়ারে বসে অন্যদের দৌড় দেখছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলি আর্টিলারি হামলায় মারাত্মক আহত হওয়ার পর থেকে সে পক্ষাঘাতগ্রস্ত। তার বাবা রমি হিজাজি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান। সাইফের মা ওয়ারদা হিজাজি জানান, স্বামী হারানোর পর থেকে সন্তানদের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ভার তাকে একা সামলাতে হচ্ছে। এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে তিনি যেমন বিষণ্ণতার সঙ্গে লড়ছেন, তেমনি নিজের সন্তানদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।

একই পরিস্থিতি সামাহ আবু আমরার মতো শত শত মায়ের। পাঁচ সন্তানের জননী সামাহ জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সন্তানদের শিক্ষা, খাদ্য ও মানসিক সহায়তা দেওয়া এখন অসম্ভবপ্রায় হয়ে পড়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে কেবল সাময়িক সহায়তার দিকে না তাকিয়ে এতিম শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

আয়োজক মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, পরিবার প্রধানকে হারানো পরিবারগুলোর জন্য জীবন এখন অসহনীয়। তাদের এই সংকট বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতেই তারা এই ম্যারাথনের আয়োজন করেছেন। অনুষ্ঠান শেষে সাইফ হিজাজিসহ ১০০ জন এতিম শিশুকে প্রতীকী সম্মাননা ও পদক দেওয়া হয়। আয়োজকরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর গাজার অসহায় শিশুদের মানবিক চাহিদার দিকে ফিরবে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *