স্পেনের সেউটা শহরে মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসীর আকস্মিক প্রবেশের ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু দেশের অবস্থানকে স্বার্থপর, মেরুকরণকারী এবং বেআইনি বলে বর্ণনা করেছেন। স্পেনের দাবি, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অবৈধভাবে আসা ব্যক্তিদের প্রায় সবাই ফেরত গেছেন। এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ৬৭ জন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্ডে-মার্লাসকা।
সীমান্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট
গত ৩০ জুলাই মরক্কো থেকে হাজার হাজার মানুষ স্পেনের উত্তর আফ্রিকার এই ছিটমহলে প্রবেশ করলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। সানচেজ জানিয়েছেন, ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে স্পেন সরকার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে পুনরুদ্ধার করেছে এবং মহাদেশীয় ইউরোপের দিকে তাদের কোনো অননুমোদিত গমন প্রতিরোধ করেছে। তিনি আরও বলেন, পাচারকারী চক্রগুলো সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে দিয়ে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার জেরে ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সাথে শেনজেন চুক্তি স্থগিত করেছে এবং ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক ইতালির এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে। চেক প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে বাবিশ স্পেনের শেনজেন সদস্যপদ সাময়িক স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, সিউটা শেনজেন এলাকার অংশ নয় এবং এসব দেশ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ভুল তথ্য ও কুসংস্কার থেকে এই আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশের মধ্যে ২২টি দেশ এই বিষয়ে জরুরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মরক্কোর সাথে সহযোগিতার পাশাপাশি সীমান্তে সৈন্য ও আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম মোতায়েন বাড়িয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা আগামী মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সংকট নিয়ে আলোচনা করবেন। স্পেন সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা জলসীমায় অস্থায়ী inflatable ব্যারিয়ার বা ভাসমান বাধা স্থাপন শুরু করেছে।










