বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যেসকল মেগা প্রকল্পের ভৌত কাজ এখনো শুরু হয়নি, সেগুলো স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, অত্যন্ত জরুরি প্রকল্প ছাড়া বাকিগুলো আপাতত বন্ধ রাখা উচিত।
‘বাংলাদেশের শীর্ষ ২০ মেগা প্রকল্প: প্রবণতা ও বর্তমান অবস্থা’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন। ড. ভট্টাচার্য বলেন, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বড় অংকের ঋণ পরিশোধের সময় ঘনিয়ে আসায় দেশের ঋণ পরিস্থিতির দিকে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও চলতি হিসাবের ঘাটতি বিবেচনায় নিয়ে ঋণ পরিশোধের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। প্রয়োজনে আসন্ন কিস্তিগুলো পুনর্নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একইসঙ্গে, যেসব প্রকল্পে দুর্নীতির স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনার পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ।
ড. দেবপ্রিয় ও তার গবেষণা দল দেশের ২০টি ব্যয়বহুল মেগা প্রকল্প নিয়ে পর্যালোচনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প। এই ২০টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকার বেশি, যার ৬১ শতাংশেরও বেশি অংশ বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
গবেষণায় উঠে এসেছে, মেগা প্রকল্পগুলোর কারণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো খাতগুলোতে বরাদ্দ কমে গেছে। এছাড়া প্রকল্পের ধীরগতি ও স্বচ্ছতার অভাব দেশের রিজার্ভের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঋণ ও পরিশোধের বিষয়ে তিনি জানান, এই প্রকল্পগুলোর জন্য ৪০টি ঋণ প্যাকেজ ও পাঁচটি অনুদান রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলারের ১৩টি ঋণ প্যাকেজ পরিশোধের সময়সীমা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সাথে সরকারের আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ড. ভট্টাচার্য। তার মতে, আইএমএফের ঋণ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে সহায়তা করবে।










