ফিলিস্তিনের গাজা সিটির আল-সাবরা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় একই পরিবারের ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চিকিৎসকরা। গত রাতে পশ্চিমাঞ্চলীয় এই এলাকায় চালানো হামলায় পরিবারটির অ্যাপার্টমেন্টে আগুন ধরে যায়। নিহতদের আত্মীয়রা জানিয়েছেন, হামলায় ফিরাস আল-মাসরি, তার স্ত্রী সালসাবিল এবং তাদের তিন মেয়ে ও এক ছেলে—ফারিয়াল, সালমা, আমিরা ও নাইম ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল হামাসের একজন কর্মী। হামলার ফলাফল সম্পর্কে তারা এখনো তদন্ত করছে। গত অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১,১৬৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন।
গাজায় ইসরায়েলি সামরিক হামলার তীব্রতা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে আবাসিক ভবন ও বাস্তুচ্যুতদের তাবুসহ বিভিন্ন জনাকীর্ণ স্থানে হামলায় অন্তত ৫৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে আটজন নারী ও ছয়জন শিশু রয়েছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র থামেন আল-খীতান বলেন, যুদ্ধবিরতির ৯ মাস পরও গাজার কোথাও ফিলিস্তিনিদের জন্য নিরাপদ জায়গা অবশিষ্ট নেই। বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সেই থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে ৭৩ হাজার ২৯০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েলের দাবি, ৭ অক্টোবরের সেই হামলায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হয়েছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনী হামাসের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে।










