Home / বিশ্ব / কানাডা থেকে আমদানিকৃত পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প

কানাডা থেকে আমদানিকৃত পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য এবং অ্যালকোহলের প্রতি কানাডা অসম আচরণ করছে—এমন অভিযোগ এনে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে, যা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্যমতে, মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুল্কের আওতা ও প্রভাব

নতুন এই শুল্কের আওতায় মদ, হকি স্টিক এবং সিমেন্টের মতো দৈনন্দিন ব্যবহার্য ও শিল্পপণ্য রয়েছে। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ এবং মাছের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্যকে এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। বিদ্যমান ইউএসএমসিএ (USMCA) চুক্তির আওতায় থাকা পণ্যগুলোও নতুন এই শুল্কের অন্তর্ভুক্ত হবে।

এই ঘোষণার আগে থেকেই কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং তামার ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে। এছাড়াও কানাডার সফটউড লুম্বারের ওপর ৩৫ শতাংশ এবং গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আদায় করছে ওয়াশিংটন। এর বিপরীতে কানাডাও মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে রেখেছে।

কেন এই সিদ্ধান্ত

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সই করা নির্বাহী আদেশে দাবানলের ধোঁয়া বা অন্যান্য ইস্যুর বদলে মূলত বাণিজ্য সংক্রান্ত অভিযোগগুলোকে সামনে আনা হয়েছে। এর মধ্যে গাড়ির যন্ত্রাংশ, দুগ্ধজাত পণ্যের আমদানি সীমা এবং মার্কিন অ্যালকোহল বর্জন অন্যতম। ট্রাম্পের দাবি, কানাডা মার্কিন মোটরযানের ওপর যে কর আরোপ করে, তা অযৌক্তিক এবং এটি আমেরিকার প্রতি বৈষম্য।

এছাড়া কানাডার সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের কারণে মার্কিন দুগ্ধজাত পণ্যের ওপর ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হয়, যা নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে ওয়াশিংটনের।

আইনি ভিত্তি ও প্রতিক্রিয়া

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী কিছু শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। সে সময় আদালত জানিয়েছিল, জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তবে এবারের শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ১৯৩০ সালের শুল্ক আইনের ৩৩৮ নম্বর ধারার অধীনে, যা মূলত বাণিজ্য বৈষম্য মোকাবিলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

কানাডিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের প্রধান ক্যান্ডেন্স লাইং এই সিদ্ধান্তকে হতাশাজনক বলে অভিহিত করেছেন। তবে শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *