যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে স্পেন। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দলটি ফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে কৌশলগতভাবে পরাস্ত করে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলেছে। টুর্নামেন্ট জুড়ে স্পেনের অজেয় থাকা এবং নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলা তাদের এই অর্জনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
টুর্নামেন্টের শুরুটা অবশ্য স্পেনের জন্য সহজ ছিল না। জুনের মাঝামাঝি সময়ে নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়। তবে টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে, স্পেনের তরুণ দল তত বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। পুরো আসরে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেছে এবং টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছে।
দলের তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রেখেছেন কোচ দে লা ফুয়েন্তে। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের গড় বয়স ছিল ২৬.১৯ বছর, যেখানে পাউ কুবারসি এবং লামিনে ইয়ামালের মতো ১৯ বছর বয়সী ফুটবলাররা মূল ভূমিকা পালন করেছেন। নকআউট পর্বে পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাইকেল মেরিনোর শেষ মুহূর্তের গোলগুলো স্পেনকে সেমিফাইনালে তুলেছিল।
ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে কোনো সুযোগই দেয়নি স্পেন। পুরো ম্যাচে ৬৫ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে তারা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা গোলের জন্য মাত্র দুটি শট নিতে পেরেছে, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না। ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলটিই শেষ পর্যন্ত স্পেনের শিরোপা নিশ্চিত করে। এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনা আরও চাপে পড়ে যায়।
ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিশ্ব জয়ের স্বাদ পাওয়া স্পেন ফুটবল বিশ্বে নিজেদের নতুন আধিপত্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। লামিনে ইয়ামাল, পেদ্রি ও নিকো উইলিয়ামসের মতো তরুণ তারকাদের নিয়ে গড়া এই দলটি ২০৩০ বিশ্বকাপেও ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছে। কোচ দে লা ফুয়েন্তের চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করায় স্পেনের এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।










