যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানিকৃত অ্যালকোহল, দুগ্ধজাত পণ্য ও মোটর গাড়ির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা দিয়েছেন। কানাডা মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য যুদ্ধের নতুন এই মোড় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাণিজ্যের মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় কানাডাকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হবে। অগাস্টের শেষ দিকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন করে কোনো বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়নি। হোয়াইট হাউসের অভিযোগ, কানাডা মার্কিন পণ্য বিতরণে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে, যা অন্যান্য দেশের পণ্যের ক্ষেত্রে করছে না।
বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব ও পটভূমি
গত মাসে হোয়াইট হাউস প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। এর জবাবে কানাডা স্টিল, পোশাক ও আসবাবপত্রের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে, যা মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে। এই বাণিজ্যিক উত্তেজনার জেরে দুই দেশের ব্যবসায়ী মহল পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং গ্রাহক কমার আশঙ্কা করছে।
অন্যান্য পদক্ষেপ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, কানাডার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বার্ডিয়ার তাদের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে চাইলে উৎপাদন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিতে হবে। বাণিজ্য যুদ্ধ শুধু শুল্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং গত অগাস্টে অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার নির্দেশ দেন ট্রাম্প, যা দুই দেশেই ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। বাণিজ্য ভারসাম্য ফেরানোর লক্ষ্যে ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতি দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটাচ্ছে।










