বাংলাদেশের ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্বরে সরকার লংমার্চে বাধা দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ শুরুর আগে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এই বক্তব্য দেন। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই লংমার্চ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের সিন্ডিকেট, সন্ত্রাস, মাদক এবং স্বৈরাচারী মনোভাবের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের দাবি আদায়ের আন্দোলন।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাধা আসলেও এই লংমার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকা লংমার্চের মাধ্যমে যেমন স্বৈরাচারের পতন ঘটেছিল, এবার তেমনি নতুন করে স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করতে এই যাত্রা শুরু হয়েছে। যারা ৭০ শতাংশ জনগণের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এটি একটি গণজাগরণের লংমার্চ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার যদি শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে বিদ্যমান ৬ দফা দাবি এক দফায় পরিণত হবে।
এই লংমার্চের ছয়টি প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি-সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধ করা।
১১ দলীয় জোটের এই লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
ঢাকা থেকে শুরু হওয়া এই লংমার্চটি পাঁচটি পথসভার পর চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে।










