পানামার পানামা সিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়া সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা ও প্রভাব বিস্তারের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা সামনে এসেছে। কার্লোস এইচ ব্র্যান্ডের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টের চালু করা ‘আমেরিকা কাউন্টার-কার্টেল কোয়ালিশন’ (এসিসিই) লাতিন আমেরিকায় ওয়াশিংটনের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর একটি বড় পদক্ষেপ।
বর্তমানে ১৭টি লাতিন ও ক্যারিবীয় দেশ এই জোটের অন্তর্ভুক্ত। এর লক্ষ্য মাদক চোরাচালান রোধের পাশাপাশি ওই অঞ্চলে চীনের মতো বৈশ্বিক প্রতিপক্ষের প্রভাব মোকাবিলা করা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) ‘ওয়েস্টার্ন হেমিসফিয়ার জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, যা সদস্য দেশগুলোর সামরিক কার্যক্রম সমন্বয় করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিকীকরণের ফলে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়বে, যা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক খাতে বরাদ্দ কমিয়ে দেবে। এটি ওই অঞ্চলের দেশগুলোর গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে। অতীতে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে, যেখানে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব প্রায়ই বিঘ্নিত হয়েছে।
কার্লোস এইচ ব্র্যান্ডের মতে, এই নতুন উদ্যোগ লাতিন আমেরিকার নাজুক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে এই অঞ্চলে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।









