বাংলাদেশের চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ছয় দফা দাবিতে ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ। শনিবার রাতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা এই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। জ্বালানি সংকট ও জনদুর্ভোগের প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এই লংমার্চটি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই লংমার্চ শুরু হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তা চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছায়। জামায়াতে ইসলামীর তথ্য অনুযায়ী, পুরো পথজুড়ে লংমার্চে প্রায় ১ হাজার ৫০০ গাড়ি অংশ নেয়।
সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। সাধারণ মানুষ জ্বালানির অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানায় পড়ছে। তিনি জনগণের এসব সমস্যা সমাধানে সরকারকে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
লংমার্চের অংশগ্রহণকারী ও সমর্থকদের দাবি, এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। কুমিল্লা থেকে আসা মাহবুব নামের এক সমর্থক জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা আজকের উপস্থিতিতে স্পষ্ট হয়েছে। এনসিপি কর্মী রানা দাবি করেন, দাবি আদায়ে আগামী দিনেও তাদের এই জোট রাজপথে সক্রিয় থাকবে।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দীর্ঘ পথজুড়ে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। প্রতিটি স্থানেই জোটের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। সমাপনী সমাবেশের পর ১১-দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন।










