Home / জাতীয় / হিমাগারে পচছে আলু, দিশেহারা বগুড়া ও জয়পুরহাটের কৃষকরা

হিমাগারে পচছে আলু, দিশেহারা বগুড়া ও জয়পুরহাটের কৃষকরা

বাংলাদেশের বগুড়া ও জয়পুরহাটে হিমাগারে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ আলু অবিক্রীত থাকায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। হিমাগার থেকে আলু বের করলেই বস্তায় বস্তায় পচা ও নষ্ট আলু পাওয়া যাচ্ছে, যা কৃষকের মাথায় ঋণের বোঝা বাড়িয়ে দিচ্ছে। চাহিদা না থাকা ও দাম না বাড়ার কারণে এই পরিস্থিতিতে আমন মৌসুমের চাষাবাদ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেকে।

জয়পুরহাটে ৬০ কেজি ওজনের এক বস্তা আলু হিমাগার থেকে খালাস করতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের খরচ পড়ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। অথচ বর্তমানে সেই আলু হিমাগারের গেটে ৯২০ থেকে ৯৬০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে প্রতি বস্তায় প্রায় ৪৪০ থেকে ৪৮০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের। একই চিত্র বগুড়ার হিমাগারগুলোতেও দেখা গেছে।

দীর্ঘদিন হিমাগারে সংরক্ষিত থাকার কারণে আলুর মান দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। বস্তা খুললেই ভেতরে পচা ও নরম আলু পাওয়া যাচ্ছে, যার ফলে শ্রমিক দিয়ে বাছাই করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ বাড়ছে। ব্যবসায়ীরাও বাজারে চাহিদা কম থাকায় ঝুঁকি নিয়ে আলু কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় আলু খালাসের হার অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। জয়পুরহাটের ২২টি হিমাগারে মজুতকৃত আলুর ২০ শতাংশও আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিক্রি হয়নি।

ভুক্তভোগী কৃষকদের ভাষ্যমতে, হিমাগারে আলু আটকে থাকায় তাদের মূলধন আটকে গেছে। আমন মৌসুমের সার, বীজ ও শ্রমিক খরচ জোগাড় করতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকে লোকসানের ভয়ে হিমাগার থেকে আলু তুলতেই চাচ্ছেন না।

বিশেষজ্ঞ ও কৃষকদের মতে, শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, এর সাথে বাজার ব্যবস্থাপনা, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগের অভাব রয়েছে। প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরির শিল্প বাড়লে এবং রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হলে স্থানীয় বাজারের ওপর চাপ কমত এবং কৃষকরা ন্যায্য দাম পেতেন বলে তারা মনে করছেন।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *