তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের পদত্যাগ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন শত শত বিক্ষোভকারী। বিক্ষোভকারীরা বৃহস্পতিবার দেশটিতে ‘এক ব্যক্তির শাসন’ ও ‘স্বৈরতন্ত্রের দিকে ধাবমান’ পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানান। একইসাথে তারা কারাবন্দি বিরোধী দলীয় নেতা, অ্যাক্টিভিস্ট এবং সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে দেশটির সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, প্রেসিডেন্ট সাইদের শাসনকালের গত দুই মাস ধরে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ভয়াবহভাবে কমেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটি ‘সম্পূর্ণ পতনের’ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাক্টিভিস্ট উইসাম সঘাইয়ের। বৃহস্পতিবারের এই বিক্ষোভটি গত ২৫ জুলাইয়ের ধারাবাহিকতা, যেখানে ২০২১ সালে সাইদের সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘটনার বার্ষিকীতে বড় আকারের প্রতিবাদ হয়েছিল।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তিউনিসিয়ায় বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার ৫.২ শতাংশ। বিদেশি বিনিয়োগ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় সরকার ব্যয় সংকোচনের পথ বেছে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সরকারি খাতে নিয়োগ বন্ধ এবং আমদানি হ্রাস করা হয়েছে। তিউনিসিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পানি ও বিদ্যুৎ সংকট, পরিবেশগত বিপর্যয় এবং দাবানলের মতো সমস্যার কারণে জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদ সম্পর্কে
২০১৯ সালে নির্বাচনী জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন সাবেক সাংবিধানিক আইনবিদ কাইস সাইদ। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিচার বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়নের অভিযোগে তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।










