কানাডার কিউবেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী দল পার্টি কুইবেকোয়াসের (পিকিউ) নেতা পল সেন্ট-পিয়েরে ঘোষণা দিয়েছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত প্রদেশটির স্বাধীনতার জন্য কোনো গণভোট আয়োজন করা হবে না। মঙ্গলবার তিনি জানান, মার্কিন রাজনীতির বর্তমান অস্থিরতা এবং ট্রাম্পের অনিশ্চিত কর্মকাণ্ডের কারণে কিউবেকের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই বিতর্কটি প্রভাবিত হতে পারে। তাই ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ পর্যন্ত গণভোটের বিষয়টি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কিউবেকে আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রাদেশিক নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। জনমত জরিপে বর্তমান ক্ষমতাসীন কোয়ালিশন অ্যাভেনির কিউবেক এবং লিবারেল পার্টির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে পল সেন্ট-পিয়েরের দল। দলটি নির্বাচনে জয়ী হলে স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও, তা ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অবসানের আগে সম্পন্ন হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।
কেন এই সিদ্ধান্ত
সেন্ট-পিয়েরে মনে করেন, আমেরিকার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিউবেকের জাতীয় স্বার্থের বিতর্কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তার মতে, মার্কিন প্রশাসনের অস্থিরতা এবং ভয়ভীতির পরিবেশ কিউবেকের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই একটি নিরপেক্ষ ও শান্ত পরিবেশ পাওয়ার পরই তারা গণভোটের পথে এগোতে চান।
প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কানাডার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। ট্রাম্প কানাডার ওপর বিভিন্ন পণ্যে উচ্চহারে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। এই টানাপোড়েনের ফলে কানাডার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদের জোয়ার দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতামত
ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড্যানিয়েল বেল্যান্ডের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউসে রয়েছেন, সেই সময়ে স্বাধীনতা গণভোটের ডাক দেওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন যে, কিউবেকে স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি স্থির হয়ে আছে। পিকিউ দলের জনপ্রিয়তার মানে এই নয় যে স্বাধীনতার প্রতি জনসমর্থন বেড়েছে, বরং মার্কিন অস্থিরতার কারণে কানাডার সঙ্গে অর্থনৈতিক অটুট থাকার বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে এখন বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারে।










