ভিয়েতনামের দানাং বন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। এই রণতরিটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধে নিয়োজিত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও এই রণতরি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এর সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
দীর্ঘকালীন মোতায়েন ও নাবিকদের সংকট
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন টানা ২৬৬ দিন ধরে কোনো বন্দরে নোঙর না করে সাগরে অবস্থান করছে, যা মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে রেকর্ড। গত নভেম্বর মাসে সান দিয়েগো থেকে রওনা হওয়ার পর ভেনেজুয়েলা হয়ে বর্তমানে এটি ইরান যুদ্ধের ফ্রন্টে কাজ করছে। দীর্ঘ সময় সাগরে কাটানো এই রণতরির নাবিকদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর পণ্য সামগ্রীর সংকট এবং নাবিকদের জাহাজ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ার মতো ঘটনার খবর প্রকাশ পাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাহাজটির দীর্ঘ সময়ের মোতায়েন নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন। যদিও পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ জাহাজটির অবস্থার বিবরণকে ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন’ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। ভারপ্রাপ্ত নৌ সচিব হাং কাও স্বীকার করেছেন যে নাবিকরা সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করছেন, তবে সেখানে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানিয়েছেন।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি
ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্যে চলে যাওয়ায় পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আপাতত কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরি থাকছে না। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই শূন্যতা চীনকে ওই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিতে পারে। বিশেষ করে জাপান, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার মতো মিত্র দেশগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে তাইওয়ানে চীনের সরাসরি আক্রমণের সম্ভাবনা এখনই বাড়ছে না।









