ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে শনিবার ভোরে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ভূমিকম্পের তীব্রতায় শত শত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কিছু আফটারশকের ঘটনা ঘটেছে।
পূর্ব নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াডস লাকা লেনা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ঘুমের মধ্যে ভবন ধসে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার গভীরতা ছিল ১৫ কিলোমিটার। ভূমিকম্পটি অগভীর হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা।
ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও তিন ঘণ্টা পর তা তুলে নেওয়া হয়। এর আগে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পাহাড়ের দিকে আশ্রয় নেন। বিএনপিবি জানিয়েছে, দুর্যোগে অন্তত ১৫টির বেশি ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই সাথে স্কুল, হাসপাতাল এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ম্যাঙ্গারি প্রদেশে সর্বোচ্চ ২৪ জন এবং পূর্ব ম্যাঙ্গারি প্রদেশে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সিকা, এনগাদা, এন্দে এবং পশ্চিম ম্যাঙ্গারি প্রদেশেও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ পাঠানো হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রাতেও ৬.৪ মাত্রার আফটারশক অনুভূত হয়েছে। তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও অগ্নুৎপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে থাকে। কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে উপকূল থেকে দূরে থাকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।









