Home / প্রযুক্তি / গাজায় ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই পালান্টিয়ারের আকাশচুম্বী মুনাফা

গাজায় ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই পালান্টিয়ারের আকাশচুম্বী মুনাফা

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে পালান্টিয়ার টেকনোলজিস তাদের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে নজিরবিহীন মুনাফার তথ্য প্রকাশ করেছে। কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্স কার্প জানিয়েছেন, সরকারি ও বাণিজ্যিক উভয় খাতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা বাড়ায় এই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে। গাজা যুদ্ধসহ বিভিন্ন সামরিক অভিযানে কোম্পানির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা থাকলেও ব্যবসায়িক সাফল্যে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে পালান্টিয়ারের মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৩ শতাংশ বেশি। মার্কিন সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে থাকা বড় অঙ্কের চুক্তির কারণে তাদের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর প্রেক্ষিতে বার্ষিক আয়ের পূর্বাভাসও বাড়িয়ে ৮ দশমিক ১৫ থেকে ৮ দশমিক ১৫৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে কোম্পানিটি।

পালান্টিয়ারের এই ব্যবসায়িক মডেল দীর্ঘকাল ধরে সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়টি ব্যাপকভাবে বিতর্কিত। ওপেন ইন্টেলসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের মতে, পালান্টিয়ারের সফটওয়্যার ইসরায়েলি বাহিনীকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করছে।

যুক্তরাজ্যেও পালান্টিয়ারের কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা (এনএইচএস)-এর সঙ্গে বড় অংকের চুক্তি সম্পাদনের পর থেকে তথ্য নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্যাম্পেইনাররা। তবে সব সমালোচনা উপেক্ষা করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে কোম্পানিটি।

কোম্পানির প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স কার্প এবং নিকোলাস ডাব্লিউ জামিস্কা তাদের সাম্প্রতিক বইয়ে সামরিক খাতে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। সমালোচকরা কোম্পানিটির এই দর্শনকে ‘টেকনো-ফ্যাসিবাদ’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *