ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৫ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ভূমিকম্পের ফলে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকায় চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসক ও উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, খাদ্য ও ওষুধের তীব্র অভাবে ভুক্তভোগীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টার দিকে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার গভীরতা ছিল মাত্র ১৫ কিলোমিটার। ২০২২ সালের পর এটি ইন্দোনেশিয়ায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প। কম্পনের পর অন্তত দুই দিন ধরে আফটারশক অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে মানুষ খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।
দামপেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একমাত্র চিকিৎসক ড. মেলিন্ডা জানিয়েছেন, অসংখ্য আহত রোগীর চাপে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। রুতেন আঞ্চলিক হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা রিস্তা মারি জানান, সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও এখনো পর্যাপ্ত মেডিকেল সরঞ্জাম পৌঁছায়নি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর এবং অসংখ্য স্কুল ও সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিধসের কারণে পাহাড়ি এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। সিকা রিজেন্সির নিতুং গ্রামটি প্রায় দুই দিন বিচ্ছিন্ন থাকার পর উদ্ধারকারীরা সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
বর্তমানে গৃহহীনদের অনেকে খোলা আকাশের নিচে বা তাঁবুতে থাকছেন। ত্রাণ ও সরকারি সহায়তার ধীরগতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেক দুর্গত মানুষ খাবারের অভাবে ক্ষুধার্ত অবস্থায় পাহাড়ের দিকে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসকরা অবিলম্বে পর্যাপ্ত ত্রাণ ও স্বেচ্ছাসেবী পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।










