ইরানের তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশটির ভূ-রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি লন্ডনের দর্শনশাস্ত্রের সহযোগী অধ্যাপক হোসেন দাব্বাগের মতে, ইরান মূলত একটি টিকে থাকার কৌশল অবলম্বন করা রাষ্ট্র, যা আদর্শের চেয়ে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।
বর্তমানে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান যুদ্ধের পাঁচ মাস পার হলেও কোনো স্থায়ী সমঝোতা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন যে, আমেরিকার সাথে কোনো সরাসরি আলোচনা হচ্ছে না। তবে পশ্চিমের অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ইরান আদর্শগত কারণে কখনো আমেরিকার সাথে সমঝোতায় বসবে না। এই ধারণাটিকে ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন হোসেন দাব্বাগ।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
ইরানের সংবিধানে ‘হেফজ-ই নেজাম’ বা শাসনব্যবস্থা সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৮৯ সালে সংশোধিত সংবিধানের ১১২ নম্বর ধারায় ‘ডিসার্নিং দ্য এক্সপেডিয়েন্সি অব দ্য সিস্টেম’ কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্র তার স্বার্থে প্রয়োজনে যেকোনো ধর্মীয় বা আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে আসার সুযোগ রেখেছে। এটিই মূলত ইরানের মূল চালিকাশক্তি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
অতীতেও ইরান কঠিন সময়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯৮৮ সালে ইরাকের সাথে যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়া থেকে শুরু করে ইরান-কনট্রা কেলেঙ্কারির সময় আমেরিকার সাথে গোপনে অস্ত্র লেনদেন—সবই ছিল রাষ্ট্রীয় টিকে থাকার অংশ। এমনকি তালেবান পরবর্তী আফগানিস্তান গঠনেও ইরান আমেরিকার সাথে সহযোগিতা করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও মোজতবা খামেনির সমর্থনপুষ্ট ইসলামাবাদ সমঝোতা প্রমাণ করে যে, সংকটকালে ইরান আপসের পথে হাঁটতে দ্বিধা করে না।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ইরানের বর্তমান কৌশলে ‘বীরত্বপূর্ণ নমনীয়তা’ বা স্ট্র্যাটেজিক পেশেন্সের আড়ালে মূলত রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টাই দেখা যায়। বিশেষজ্ঞের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের নতুন কোনো সমঝোতা হলে তা যুদ্ধের ঝুঁকি কমাতে পারে, তবে এর অর্থ এই নয় যে ইরানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরবে। অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন ও শাসন কাঠামোর পরিবর্তনের সম্ভাবনা ছাড়াই কেবল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রটি আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।










