ইথিওপিয়ার উত্তর টাইগ্রে অঞ্চলে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার এবং টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) মধ্যে নতুন করে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণের অভিযোগ তোলার পর দেশটিতে ফের পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কেবিনেট মন্ত্রী গেটাচেউ রেদা অভিযোগ করেছেন যে, টিপিএলএফ বাহিনী ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বিমানবন্দরগুলোর দখল নিয়েছে এবং আফার ও আমহারা অঞ্চলে আক্রমণ চালিয়েছে। অন্যদিকে টাইগ্রে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর তাদের বাহিনী আত্মরক্ষার্থে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।
সংঘাতের পটভূমি
২০২২ সালে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির মাধ্যমে টাইগ্রের দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছিল। তবে গত কয়েক মাস ধরেই উভয় পক্ষ শান্তি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য একে অপরকে দায়ী করে আসছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, আগের সেই সংঘাতে প্রায় ৬ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল এবং অঞ্চলটিতে চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল।
পরিস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইথিওপিয়ার প্রেসিডেন্ট তায়ে আস্তিকে সেলাসি জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও তার দেশ অত্যন্ত সংযম প্রদর্শন করছে। এদিকে টাইগ্রের রাজধানী মেকেলের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, স্থানীয় বাহিনী শহরের বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। উত্তেজনার জেরে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স টাইগ্রেগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। মেকেলের পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে এবং জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মহল ও পরবর্তী পদক্ষেপ
আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারপারসন মাহমুদ আলি ইউসুফ অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমন ও দুই পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও টিপিএলএফ-এর এই আক্রমণকে ‘অবিবেচনাপ্রসূত’ হিসেবে অভিহিত করে নিন্দা জানানো হয়েছে। এছাড়া আমলতা শহরে ড্রোন হামলায় ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র তদন্তের দাবি জানিয়েছে। শান্তি চুক্তির শর্তাবলী বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং নতুন করে বিদ্রোহী জোট গঠনের কারণে দেশটিতে সংঘাতের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।










