রাশিয়ার কারাগারে বন্দী যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মেরিন সেনা রবার্ট গিলম্যান মুক্তি পেয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর মানবিক বিবেচনায় কোনো বন্দী বিনিময় ছাড়াই গিলম্যানকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। গিলম্যানের স্বাস্থ্যগত অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত মুক্ত করাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বর্তমানে তাকে বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী রবার্ট গিলম্যানকে ২০২২ সালে মস্কোগামী ট্রেনে মদ্যপ অবস্থায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে লাথি মারার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাগারের কঠোর পরিবেশে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং তিনি অনেকটা অচেতন বা ক্যাটাটোনিক অবস্থায় চলে যান। এরপর তাকে রাশিয়ার একটি বেসামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
গিলম্যানের পরিবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর তাকে টেক্সাসের একটি সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। তার বোন লেক্সি হাডসন অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ায় গিলম্যানকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। শুধুমাত্র আমেরিকান এবং মেরিন সেনা হওয়ার কারণেই তার ওপর এই নিপীড়ন চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এড মার্কি জানিয়েছেন, গত ৫০ দিন ধরে গিলম্যান ‘ডিসোসিয়েটিভ স্টুপোর’ নামক এক জটিল সমস্যায় ভুগছেন। এই অবস্থায় তিনি কোনো কিছু খেতে পারছেন না এবং কোনো প্রতিক্রিয়াও দেখাচ্ছেন না। তাকে কারাগারের ভেতরে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কঠোর ব্যায়াম এবং সাইকোট্রপিক ওষুধ প্রয়োগে বাধ্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মার্কিন মেরিন কোরে দায়িত্ব পালন করেন গিলম্যান। শুরুতে তাকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, পরবর্তীকালে কারাগারে এক পরিদর্শককে হামলার অভিযোগে তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছিল। বর্তমানে রাশিয়ায় আরও পাঁচজন মার্কিন নাগরিক বন্দী রয়েছেন, যারা বিভিন্ন শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।










