Home / আন্তর্জাতিক / গ্লোবাল সাউথের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ জেফ বেজোস ও এলন মাস্কের কব্জায় থাকা উচিত নয়

গ্লোবাল সাউথের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ জেফ বেজোস ও এলন মাস্কের কব্জায় থাকা উচিত নয়

যুক্তরাজ্যের ডার্টফোর্ডে অ্যামাজনের এক অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির লিও (Leo) স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। আল জাজিরার কলামিস্ট তাফি মাহাকা সতর্ক করে বলেছেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর ডিজিটাল ভবিষ্যৎ জেফ বেজোস বা এলন মাস্কের মতো ধনকুবেরদের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে সহায়তা করলেও, বিদেশি কর্পোরেশনের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এই দেশগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে অ্যামাজন তাদের লিও স্যাটেলাইট পরিষেবা দক্ষিণ আফ্রিকায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্গম ও গ্রামীণ এলাকায় যেখানে ফাইবার নেটওয়ার্ক নেই, সেখানে ইন্টারনেট পৌঁছাবে। তবে এলন মাস্কের মালিকানাধীন স্টারলিংক ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী তাদের প্রভাব বিস্তার করেছে। এ ধরনের পরিষেবা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেট অ্যাক্সেস এখন শিক্ষা, বাণিজ্য ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মূল মাধ্যম। যখন কোনো বিদেশি বেসরকারি কোম্পানি অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেয়, তখন তারা সরকার ও সাধারণ মানুষের ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার সাথে অ্যামাজন ও স্পেসএক্স গভীরভাবে যুক্ত থাকায়, অনুন্নত দেশগুলো এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মার্কিন কৌশলী ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

অতীতের ঔপনিবেশিক রেলওয়ে ব্যবস্থার সাথে বর্তমান ডিজিটাল অবকাঠামোর মিল রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। অতীতে যেমন বিদেশি কোম্পানিগুলো প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করত, বর্তমানে গুগল, মেটা বা অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ডেটা ও তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ডিজিটাল আধিপত্য বিস্তার করছে। ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, ফেসবুকের ফ্রি-বেসিকস কীভাবে স্থানীয় ব্যবসার ক্ষতি করে ডিজিটাল বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল।

গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর লাইসেন্সিং নীতি, স্থানীয় মালিকানা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক জোটের মাধ্যমে যৌথ অবকাঠামো তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারি ও পাবলিক খাতের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সমন্বয় থাকলে বিদেশি কোম্পানির বিকল্প হিসেবে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। পরিশেষে, ইন্টারনেট সংযোগ যেন কেবল বিদেশি কোম্পানির মুনাফার পথ না হয়ে সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা ও উন্নয়নের হাতিয়ার হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *