ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুলা জেলার আউকিভ নবি প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ভারতের টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচের সিরিজের জন্য জসপ্রিত বুমরাহর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ২৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। তার এই অর্জনকে জম্মু ও কাশ্মীরের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আউকিভের বেড়ে ওঠা বারামুলার একটি ছোট গ্রামে, যেখানে খেলাধুলার অবকাঠামো ছিল অত্যন্ত সীমিত। তার বাবা গোলাম নবি দার একজন স্কুলশিক্ষক। তিনি শুরুতে চেয়েছিলেন ছেলে যেন পড়াশোনায় মনোনিবেশ করে চিকিৎসক হয়। গোলাম নবি বলেন, ক্রিকেটকে তখন সময়ের অপচয় বলে মনে করতাম। কিন্তু আউকিভের অদম্য জেদ ও পরিশ্রম দেখে তিনি পরে ছেলের স্বপ্নের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
পেশাদার ক্রিকেট খেলার স্বপ্নপূরণে আউকিভকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শ্রীনগরে গিয়ে নিয়মিত অনুশীলন করতে হতো। শুরুর দিকে তার কাছে ভালো মানের জুতা কেনার সামর্থ্যও ছিল না। তবে দীর্ঘ ১০ বছর কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছেন বলে জানান তার আত্মীয় বিলাল আহমেদ দার।
২০২০ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হয় আউকিভের। গত মৌসুমে ১০ ম্যাচে ৬০ উইকেট নিয়ে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা উইকেটশিকারি হন। তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে দীর্ঘ ৬৭ বছর পর জম্মু ও কাশ্মীর রঞ্জি ট্রফি শিরোপা জেতে। এর আগে তিনি দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে আইপিএলেও খেলেছেন।
জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার পারভেজ রাসুল বলেন, আউকিভের এই সাফল্য শুধু তার একার নয়, বরং পুরো অঞ্চলের তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। প্রতিকূল আবহাওয়া, দীর্ঘ শীতকাল এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা জয় করে তার এই উঠে আসা প্রমাণ করে যে, সুযোগ পেলে এই অঞ্চলের খেলোয়াড়রাও বিশ্বমানের হওয়ার ক্ষমতা রাখে।
আউকিভের এই টেস্ট কলে ডাক পাওয়ার খবরে তার নিজ এলাকায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। তার বাবা গোলাম নবি এখন পরিচিতি পাচ্ছেন ‘আউকিভের বাবা’ হিসেবে, যা তার কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়।










