ফিলিস্তিনের গাজা উপশহরের তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত ছয়তলা ভবন ধসে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে আটজন শিশু রয়েছে। উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসকদের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি গাজায় আশ্রয়হীন মানুষের চরম সংকটের একটি করুণ দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গত বছর ইসরায়েলি হামলায় ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর একপাশে হেলে পড়েছিল। এরপরও সেখানে অসহায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে বসবাস করছিল। ভবনে প্রায় ১০টি পরিবার আশ্রিত ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
উদ্ধার কার্যক্রম ও সীমাবদ্ধতা
ভবনটি ধসে পড়ার পর উদ্ধারকারীরা প্রথমে খালি হাতেই তল্লাশি অভিযান শুরু করেন। পরবর্তীতে জাতিসংঘ ও মিশরীয় দল উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। তবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলে। বুধবার বিকেল নাগাদ ৪৫ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর পর অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার ভয়াবহতা
আশপাশের এলাকায় তাবু গেড়ে থাকা উম্মে মোহাম্মদ বকরুন বলেন, ভূমিকম্পের মতো বিকট শব্দে ভবনটি মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ে। চারপাশ ধুলোয় আচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং সবদিকে আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, ভবনটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে এমন লক্ষণ অনেকদিন ধরেই দেখা যাচ্ছিল, কিন্তু মানুষের কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না।
ঝুঁকিতে আরও চারশ ভবন
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) গাজা অফিসের প্রধান আলেসান্দ্রো ম্রাকিক জানিয়েছেন, গাজায় আরও প্রায় ৪০০টি যুদ্ধবিধ্বস্ত ভবন রয়েছে যেগুলো যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। শীতকাল ঘনিয়ে আসায় এই ঝুঁকি আরও বাড়ছে। উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের তীব্র সংকট রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
জাতিসংঘের ত্রাণ সমন্বয়কারী রামিজ আলাকবারভ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে উদ্ধারকাজের জন্য ভারী যন্ত্রপাতি এবং বাস্তুচ্যুতদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশের অনুমতির আহ্বান জানিয়েছেন। গাজায় প্রায় ৮০ শতাংশ অবকাঠামো যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১২ লাখ মানুষ বর্তমানে তাবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছে।










