বাংলাদেশের বিভিন্ন উপজেলায় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা চলাকালীন সময়েই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আগামী ৮ থেকে ১৫ ডিসেম্বর এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার মধ্যে ১৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ইউপি ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতি পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ ডিসেম্বর বাংলা, ১০ ডিসেম্বর ইংরেজি, ১৩ ডিসেম্বর গণিত এবং ১৫ ডিসেম্বর বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, একই দিনে অর্থাৎ ১৩ ডিসেম্বর দেশের অন্তত ৮০টি উপজেলায় ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ঘোষণা দেওয়ায় তৈরি হয়েছে জটিলতা। মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো একই সাথে পরীক্ষা কেন্দ্র ও ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, পরীক্ষার সময়সূচি আগেই ঘোষিত হওয়ায় একই দিনে ভোটগ্রহণ সমীচীন হয়নি। বরিশালের এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের মতে, একই স্থানে পরীক্ষা ও ভোট অনুষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যাতায়াত এবং সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই তারা ভোটের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, বিভিন্ন পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় নিয়েই সাত ধাপে নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার বিষয়টি হয়তো তাদের পরিকল্পনায় সেভাবে গুরুত্ব পায়নি।
এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনা করবেন। ১৩ ডিসেম্বর গণিত পরীক্ষার দিনটি পরিবর্তন করা যায় কি না বা অন্য কোনো উপায় বের করা যায় কি না, তা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।







