যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে সিআইএ বা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ৯/১১ হামলার আগে ওসামা বিন লাদেন এবং আল-কায়েদা সম্পর্কে প্রেসিডেন্টদের দেওয়া গোপন নথিপত্র প্রকাশ করেছে। হামলার ২৫ বছর পর সংস্থাটির পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এই পদক্ষেপকে ‘অস্বাভাবিক স্বচ্ছতার চর্চা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এসব নথি প্রকাশের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, বিমান ছিনতাই ও হামলার অনেক আগে থেকেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওসামা বিন লাদেনের গতিবিধি, অর্থায়ন ও আল-কায়েদার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছিল।
প্রকাশিত ১০১ পৃষ্ঠার এই নথিতে ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭১টি প্রেসিডেন্সিয়াল ব্রিফিং অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এগুলোতে বিন লাদেনের রাসায়নিক, জৈবিক ও তেজস্ক্রিয় বোমা তৈরির প্রচেষ্টার বিষয়টি উঠে এসেছে। এছাড়া তালিবান শাসিত আফগানিস্তানে বিন লাদেনের অবস্থানের বিষয়টিও গোয়েন্দা তথ্যে উঠে আসে।
ব্রিফিংগুলোতে দেখা যায়, ১৯৯৮ সাল থেকেই গোয়েন্দারা সতর্ক করেছিলেন যে আল-কায়েদা বিস্ফোরক বোঝাই বিমান নিয়ে মার্কিন কোনো শহরে আঘাত হানতে পারে। এমনকি বিন লাদেনের নেটওয়ার্কের সদস্যরা যে বিমান ছিনতাইয়ের প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল, সে তথ্যও প্রেসিডেন্টদের জানানো হয়েছিল। ২০০১ সালের গ্রীষ্মকালে বিন লাদেনের হামলার পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কবার্তার মাত্রা আরও বেড়ে গিয়েছিল।
যদিও এসব নথিতে হামলার সময় বা নির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই, তবে এটি নিশ্চিত করে যে মার্কিন সরকারের কাছে হামলার আগাম অনেকগুলো সতর্ক সংকেত ছিল। তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিভিন্ন খণ্ডিত তথ্যগুলো একত্রিত করে বড় কোনো হামলার আশঙ্কা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিল। এই নথিপত্রগুলো কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রমাণ দেয় না, বরং গোয়েন্দা তথ্যের জটিল সমন্বয় ও বিশ্লেষণের সীমাবদ্ধতার দিকটিই পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।










