Home / আন্তর্জাতিক / উত্তর কোরিয়ায় নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, উদ্বেগে আন্তর্জাতিক সংস্থা

উত্তর কোরিয়ায় নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, উদ্বেগে আন্তর্জাতিক সংস্থা

উত্তর কোরিয়ার ইয়ংবিয়ন পারমাণবিক কমপ্লেক্সে নতুন একটি দোতলা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি। এই স্থাপনাটি তৈরি করা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। নতুন এই ভবনটিতে ২৮টি পর্যন্ত সেন্ট্রিফিউজ ক্যাসকেড স্থাপনের সক্ষমতা রয়েছে, যা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত হয়।

আইএইএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়ংবিয়ন ছাড়াও রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছাকাছি কাংসন নামক স্থানে আরও একটি সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের সম্প্রসারিত অংশে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে উত্তর কোরিয়ায় কোনো পরিদর্শক প্রবেশের অনুমতি না থাকায় স্যাটেলাইট ইমেজের ওপর ভিত্তি করে সংস্থাটি এই মূল্যায়ন করেছে।

রাফায়েল গ্রসি জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার এই পারমাণবিক কর্মসূচি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি একে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি নতুন পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেছিলেন, যাকে আইএইএ ইয়ংবিয়নের নতুন স্থাপনা হিসেবে শনাক্ত করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির মূল ভয়ের জায়গা হলো এর অনেক গোপন স্থাপনা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এডওয়ার্ড হাওয়েল জানান, ইয়ংবিয়ন ছাড়াও কাংসনের মতো আরও অনেক গোপন উৎপাদন কেন্দ্র থাকতে পারে, যা শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। কিম জং উন তার দেশের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার গোপন পারমাণবিক অস্ত্রাগার উন্নয়নে ব্যয় করছেন।

২০২২ সালে উত্তর কোরিয়া নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেয় এবং অস্ত্র ত্যাগ না করার অঙ্গীকার করে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং গত আগস্টে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও পিয়ংইয়ং এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া দেয়নি। লি জে মিউংয়ের দাবি অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০টি নতুন পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করছে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *