হংকংয়ে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার এবং তার দুই সন্তানের সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ প্রদান করেন। অর্থপাচারের তদন্তের স্বার্থে এই নির্দেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দুদকের যৌথ তদন্ত দলের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত নেয়। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার ছেলে ওয়ালিদ ইবনে ইসলাম ও মেয়ে আনিকা ইসলাম হংকংভিত্তিক ‘চায়না সুপ্রিম লিমিটেড’-এর প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিক। প্রতিষ্ঠানটির ‘দ্য ব্যাংক অব ইস্ট এশিয়া লিমিটেড’-এ একটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাব রয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, নজরুল ইসলাম মজুমদার এবং তার পরিবারের সদস্যরা দেশের ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই যুক্তরাজ্য ও হংকংয়ে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিদেশে অর্জিত সম্পদের তথ্য তারা আয়কর রিটার্নে গোপন করেছেন।
দুদক আদালতে জানায়, অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে হংকংয়ে এসব সম্পদ কেনা হয়েছে এবং সেগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মামলার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ বা ব্লক করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে অর্থপাচারের একটি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং তা বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় আছে।










