বাংলাদেশের সাভারে একটি মাদরাসায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ছয় মাস ধরে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী শিশুর বাবার দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক শিক্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই ঘটনাটি শিশু সুরক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শিশুটিকে সাভারের কাশেমীনগর পূর্ব শাহীবাগের মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসায় ভর্তি করা হয়। ভর্তির তিন সপ্তাহ পর থেকেই বয়সে বড় সহপাঠীরা শিশুটিকে নিয়মিত যৌন নির্যাতন শুরু করে। পরবর্তীতে বিষয়টি জেনে কয়েকজন কিশোর শিক্ষার্থীও তাকে ধর্ষণ করে। ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত এই নির্যাতন অব্যাহত ছিল।
ঘটনার বিচার ও আইনি ব্যবস্থা
গত ২৩ আগস্ট ভুক্তভোগীর বাবা ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ বরগুনা, ভোলা, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা থেকে মামলার পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আদালতে হাজির করা হলে মক্তব বিভাগের সহকারী শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেন দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। অপর শিক্ষক কামরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং শিশু অপরাধী হওয়ায় অন্য তিনজনকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা
অভিযোগে বলা হয়েছে, শিশুটি তার মাকে বিষয়টি জানানোর পর ১৫ আগস্ট বিষয়টি মাদরাসার পরিচালক মুহতামিম জিয়া ইবনে কাসেমকে জানানো হয়। শিশুর বাবার দাবি, পরিচালক বিষয়টি পুলিশের কাছে তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানাতে নিষেধ করেছিলেন। এছাড়া মামলা করার পর থেকে বাদী পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আদালত আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।









