যুক্তরাজ্যের লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে এক বিবৃতিতে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে ব্রিটেনের অবস্থানকে অটল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দ্বীপপুঞ্জটিকে আইনগত ও ঐতিহাসিকভাবে নিজেদের ভূখণ্ড বলে পুনরায় দাবি করার পর ব্রিটিশ সরকার এই প্রতিক্রিয়া জানাল। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ফকল্যান্ডবাসী যতদিন ব্রিটিশ শাসনাধীন থাকতে চাইবেন, ততদিন যুক্তরাজ্য তাদের পাশে থাকবে।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের হুমকি
টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে দেশটির ভবিষ্যৎ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ফকল্যান্ডের কাছে তেল অনুসন্ধানকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। মিলেই স্পষ্টভাবে বলেন, দ্বীপপুঞ্জটি আর্জেন্টিনার ভূখণ্ডের অংশ এবং সেখানে বসবাসরত দ্বীপবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের কোনো বৈধ অধিকার নেই। বিশেষ করে সমুদ্রের তলদেশে তেল উত্তোলনের কার্যক্রমকে তিনি একটি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে তা বন্ধের অঙ্গীকার করেন।
তেল উত্তোলনের পরিকল্পনা ও বিতর্ক
ব্রিটেন ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে সি লায়ন তেলক্ষেত্রে তেল উত্তোলনের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে কঠোর হুশিয়ারি দেওয়া হলেও, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রমে এই সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার কোনো প্রভাব পড়বে না। তাদের দাবি, তারা ফকল্যান্ড সরকারের কাছ থেকে বৈধ লাইসেন্স পেয়েছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানিয়েছেন, ফকল্যান্ডবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রক্ষায় যুক্তরাজ্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি জানান, দ্বীপবাসীদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েই ফকল্যান্ড ব্রিটিশ ভূখণ্ড হিসেবে থাকবে। এছাড়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, ফকল্যান্ডের প্রতি ব্রিটেনের দায়বদ্ধতা নিরঙ্কুশ। ১৩ বছর আগে অনুষ্ঠিত এক গণভোটে দ্বীপের ৯৯.৮ শতাংশ মানুষ ব্রিটিশ ভূখণ্ড হিসেবে থাকার পক্ষে রায় দিয়েছিলেন।
পটভূমি
১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ৭৪ দিনব্যাপী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। ওই যুদ্ধে ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনাসদস্য এবং ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনাসদস্য নিহত হন। দীর্ঘ চার দশক পেরিয়ে গেলেও দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা এখনো বিদ্যমান।









