অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লেন কোভ শহরতলি ও এর আশপাশের এলাকায় একের পর এক এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনায় স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা লুসি জানান, বসতবাড়ির মাত্র ৩৫০ মিটার দূরে ডেটা সেন্টারের একটানা যান্ত্রিক গুঞ্জন তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নামে আবাসিক এলাকার খুব কাছে এমন বিশাল স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন স্থানীয়রা।
প্রকৃতি ও আবাসন সংকট
অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে ১৬২টি ডেটা সেন্টার রয়েছে এবং আরও ৯০টি নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে। সিডনির মার্সডেন পার্কে বর্তমানে দক্ষিণ গোলার্ধের বৃহত্তম ডেটা সেন্টারটি নির্মিত হচ্ছে, যা বসতবাড়ি থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে অবস্থিত। শিল্প এলাকায় নতুন করে আরও চারটি ডেটা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও উচ্ছেদ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
চ্যালেঞ্জ বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদা
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ডেটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানির জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির বর্তমান পরিকাঠামো। সিডনি ওয়াটারের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে সিডনির মোট পানযোগ্য পানির ২৫ শতাংশ খরচ হতে পারে ডেটা সেন্টারগুলোতে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ চাহিদা সামাল দিতে পুরনো কয়লা বা গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা দেশটির কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
সরকারের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নিউ সাউথ ওয়েলসের ট্রেজারার ড্যানিয়েল মুকির দাবি, ডেটা সেন্টারগুলো মূলত ব্যক্তিগত খাতের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে রূপান্তরে সহায়ক হতে পারে। তবে সমালোচকরা বলছেন, সাধারণ মানুষের পানির জোগান ও পরিবেশের নিরাপত্তার চেয়ে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ২০২৭ সাল থেকে নতুন বড় ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পানি ব্যবহারে আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে চলমান প্রকল্পগুলোতে এর প্রভাব পড়বে না বলে জানা গেছে।










